মেন্টরিংয়ের মানসিকতা

মেন্টরিংয়ের মানসিকতা নিয়ে একটি পর্যালোচনা


মাইন্ডসেট বলতে আসলে কী বোঝায়?

মেন্টরিং মাইন্ডসেট নিয়ে আলোচনার আগে মাইন্ডসেট বলতে কী বোঝায় সেটি বুঝে নিলে সুবিধা হতে পারে। অক্সফোর্ড ইংরেজি অভিধান অনুসারে Mindset হলো “একগুচ্ছ প্রতিষ্ঠিত মনোভাব, বিশেষত যা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সামাজিক বা সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য বলে বিবেচিত।” কোনো কাজে জড়িয়ে পড়ার পেছনে একজন মানুষের ব্যক্তিগত প্রেরণা থাকতে পারে, কিন্তু মাইন্ডসেট সেই প্রেরণাকে একটি গোষ্ঠীর মূল্যবোধের সঙ্গে মিলিয়ে চালিত করে। Exercism-এর মেন্টরের জন্য এর অর্থ হলো Exercism কমিউনিটির চেতনার ভেতর থেকে মেন্টরিং প্রক্রিয়ার কাছে এগিয়ে যাওয়া।

Exercism কমিউনিটির চেতনা

Exercism-এর উদ্দেশ্য পরিচিতি পাতায় যেভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে, তা একবার দেখে নেওয়া সহায়ক হতে পারে। পুরোটাই পড়ার ও ভাবার মতো, বিশেষ করে

  • “আমরা এমন একটি জায়গা তৈরি করছি যেখানে যে কেউ বিনামূল্যে প্রোগ্রামিং শিখতে ও আয়ত্ত করতে পারবে, কখনো নিজেকে হারিয়ে ফেলা বা বোকা মনে না করে।”
  • “Exercism হওয়া উচিত আনন্দদায়ক, চ্যালেঞ্জিং এবং মূল্যবান।”
  • “Exercism-এর উচিত গ্রোথ মাইন্ডসেট, স্পষ্ট ও সহানুভূতিশীল যোগাযোগকে উৎসাহিত করা এবং একসাথে শেখার মূল্যের ওপর জোর দেওয়া।”
  • “Exercism যেন নিরাপদ ও যত্নশীল পরিবেশ মনে হয়।”
  • “Exercism গন্তব্যের ওপর নয়, শেখার যাত্রার ওপর মনোযোগ দেয়। শেখার প্রক্রিয়া ও আনন্দ পরম তথ্যগত নির্ভুলতার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

মেন্টির চেতনা

মেন্টির চেতনা আপাতদৃষ্টিতে বিরক্তিকর মনে হতে পারে।

কিছু মেন্টির মন্তব্যে আত্ম-অবমূল্যায়নমূলক কিছু থাকতে পারে। তিনি হয়তো বলতে পারেন “আমি খুব একটা বুদ্ধিমান নই” বা “আমি বুঝতে পারছি না” বা “আমি এতে খুব একটা ভালো নই”। Exercism-এর সহানুভূতি ও পরিপোষণের চেতনায় সরাসরি এসব কথার উত্তর দিতে মন চাইতে পারে। তবে একজন মেন্টর হিসেবে তাদের সমাধান সম্পর্কে আপনার ভালো লাগা নির্দিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরা ঢালাওভাবে সান্ত্বনা দেওয়ার চেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে। তাদের সমাধানে সৎভাবে প্রশংসা করার মতো কিছু না থাকলে আপনি টেস্ট পাস করার জন্য তাদের অভিনন্দন জানাতে পারেন, আর তারা টেস্ট পাস করতে না পারলে অন্তত তাদের চেষ্টার স্বীকৃতি দিতে পারেন।

কিছু মেন্টি হয়তো এমনভাবে নিজের মন্তব্য শুরু করতে পারেন যা নেতিবাচক বলে মনে হতে পারে। তিনি হয়তো বলতে পারেন “আমাকে এসব করতে হবে কেন?” তখন মনে হতে পারে তিনি ঠিক এভাবে অভিযোগ করছেন, “আমাকে মটরশুঁটি খেতে হবে কেন? আমি তো মটরশুঁটি ঘৃণাই করি!” শুরুটা দেখে মনে হতে পারে তিনি ঝগড়ার সুরেই শুরু করেছেন, তাই আপনি হয়তো তাকে মেন্টর করতে অনিচ্ছুক হয়ে পড়তে পারেন। কিন্তু যাকে দেখে অবাধ্যতা বা অভিযোগ মনে হয়, সেটি আসলে সহজ একটা জিজ্ঞাসাও হতে পারে, যদিও একটু ধারালোভাবে বলা হয়েছে।

Note

অনেক মেন্টির প্রথম ভাষা ইংরেজি নয়। এটিও একটি কারণ হতে পারে কেন মেন্টির শুরুর মন্তব্য আসলে যতটা বন্ধুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে কম বন্ধুত্বপূর্ণ মনে হয়।

তাদের মন্তব্যে আপনার মনে যে আবেগই জেগে উঠুক, সেটি উপেক্ষা করে শুধু প্রশ্নটির উত্তর দিলেই ভালো।

এগুলো মাত্র দুটি উদাহরণ, যা দেখায় মেন্টির আপাত চেতনা তাদের প্রতি সাড়া দেওয়ার সময় মেন্টরের মনোভাবকে প্রভাবিত করা উচিত নয়।

মেন্টরের চেতনা

মেন্টরের চেতনা অহংকার বা বিনয়, এই দুটির যেকোনোটির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠতে পারে। একজন মেন্টর হয়তো মনে করতে পারেন, তিনি বুদ্ধিমান এবং/অথবা তাঁর একটা নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতা আছে বলেই মেন্টর করার অধিকার তাঁর আছে। তিনি হয়তো মনে করতে পারেন, অন্যদের চেয়ে তিনি ভালো জানেন বলেই তাঁর মেন্টর করা উচিত। অহংকারপ্রসূত চেতনার একজন মেন্টরও হয়তো ধৈর্য ও ভদ্র নির্দেশনা নিয়ে মেন্টির কাছে যেতে পারেন, যদিও তা সহানুভূতির চেয়ে বেশি মহানুভবতা থেকে আসতে পারে।

আবার একজন মেন্টরের চেতনা বিনয়েরও হতে পারে। তিনি হয়তো স্পষ্ট মনে করতে পারেন, প্রোগ্রামিং শেখার সময় তিনি কী কী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তিনি হয়তো জানেন তাঁর কাছে সব উত্তর নেই, কিন্তু কিছু উত্তর আছে, আর কষ্টার্জিত সেই জ্ঞান ভাগ করে নিতে তিনি ইচ্ছুক। বিনয়প্রসূত চেতনার মেন্টরও মানুষ, তাই কঠিন কোনো মেন্টরিং সেশনে তিনি হয়তো রুক্ষ বা তর্কাত্মকভাবে সাড়া দিতে প্রলুব্ধ হতে পারেন। সেরা উদ্দেশ্য নিয়েও মানুষকে খারাপ দিনে সতর্ক থাকতে হয়।

তৃতীয় একটি চেতনাও আছে, যা অহংকারের চেতনারই একটি রূপ, আর তা হলো অনিরাপত্তার চেতনা। একজন মেন্টর হয়তো নিজের সুনাম নিয়ে অনিরাপদ বোধ করতে পারেন এবং সেই ঘাটতি পূরণের জন্য মেন্টিদের কাছ থেকে স্বীকৃতি খুঁজতে পারেন। নিজে কতটা ওয়াকিবহাল তা দেখাতে তিনি হয়তো বিপুল পরিমাণ তথ্য ও রেফারেন্স দিয়ে মেন্টিকে হিমশিম খাইয়ে দিতে পারেন। এমন তথ্যের স্তূপ থেকেও মেন্টি কাজের তথ্য পেতে পারেন, কিন্তু অনিরাপদ মেন্টরের কাছে সেটি গৌণ উদ্দেশ্য। মূল উদ্দেশ্য হলো মেন্টর কতটা জ্ঞানী, তা দেখানো। ভিন্ন উদ্দেশ্যে চালিত হলেও, জটিলতার গভীরে মেন্টিকে হারিয়ে না ফেললে অনিরাপদ মেন্টরও হয়তো Exercism মাইন্ডসেটের লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পারেন।

সত্যের চেতনা

তথ্যগত নির্ভুলতা নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ এবং তার যথাযথ জায়গা আছে। যেমন, যেখানে মেট্রিক একক প্রত্যাশিত সেখানে মাপের ইম্পেরিয়াল একক ব্যবহার না করা গুরুত্বপূর্ণ। নাহলে ৩২৭ মিলিয়ন ডলারের মঙ্গল ক্লাইমেট অরবিটার ভেঙে পড়তে পারে। নিশ্চয়ই, পেশাগতভাবে কোনো ভাষা ব্যবহার করলে নির্ভুলতাকে একটি মূল শর্ত হিসেবে মেনে চলার প্রত্যাশা করা হয়।

তবে কোনো ভাষা শিখছেন যিনি, তাঁর ক্ষেত্রে শর্তগুলো একটু আলাদা। প্রথমত, আমরা সেই ব্যক্তিকে ভাষাটি শেখা চালিয়ে যেতে নিরুৎসাহিত করতে চাই না। কিছু মেন্টরের কাছে, বিশেষ করে অহংকারপ্রসূত চেতনার যাদের, কাউকে বোঝাতে পারা যে তিনি হয়তো এই ভাষার জন্য উপযুক্ত নন, বা ভাষাটি শেখার এখন সঠিক সময় নয়, তা একধরনের অর্জনের অনুভূতি দিতে পারে। কিছু কাজের পরিবেশে ফলাফলটি গ্রহণযোগ্য হলেও, Exercism-এর মাইন্ডসেটের মধ্যে এমন ফলাফল পড়ে না।

Note

এর একটি ব্যতিক্রম হলো যিনি নিজের প্রথম প্রোগ্রামিং ভাষা শিখছেন। Exercism তাদের জন্য, যারা ইতিমধ্যে প্রোগ্রাম করতে জানে এবং আরেকটি ভাষা শিখতে বা নিজের বিদ্যমান দক্ষতা বাড়াতে চায়। আসন্ন Learn to Code প্ল্যাটফর্মটি লক্ষ্য করবে এমন মানুষদের, যারা সবে প্রোগ্রামিং শিখতে শুরু করেছেন।

প্রায়শই, যিনি মেন্টরিং চান তিনি কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে একটি প্রোগ্রামিং ভাষা পড়ছেন এবং শেখা বেসিকগুলো আরও ভালো করতে চান। তার অন্য কোনো ভাষার অভিজ্ঞতা থাকতেও পারে, না-ও থাকতে পারে। এটি যদি তার প্রথম ভাষা হয়, কিন্তু তিনি মৌলিক কিওয়ার্ড ও ধারণাগুলো আয়ত্ত করে ফেলেছেন, তাহলে মেন্টরিং থেকে উপকৃত হওয়ার ভালো সম্ভাবনা তার আছে। তার একটু বেশি ধৈর্য ও ব্যাখ্যার প্রয়োজন হতে পারে, যা মেন্টরিং রিকোয়েস্ট গ্রহণ করার সময় মেন্টর হয়তো বুঝতে পারেননি। তবে একবার এই দেখাশোনায় জড়িয়ে পড়লে Exercism-এর মাইন্ডসেট হলো হয় যথাসম্ভব সহায়ক ও উৎসাহদায়ক হওয়া, এমনকি তাতে বাড়তি পরিশ্রম লাগলেও, নয়তো ভদ্রভাবে সেশনটি শেষ করার প্রস্তাব দেওয়া, যাতে মেন্টি আবার আবেদন করে অন্য একজন মেন্টর পেতে পারেন।

অবশ্যই, মেন্টিরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে তারা আর ওই ভাষাটি শিখবেন না। বেশিরভাগই সম্ভবত আমাদের কিছু বলবেন না, শুধু ওই ভাষার অনুশীলনী সমাধান করা বন্ধ করে দেবেন। তবে একটি মেন্টরিং সেশন চলাকালীন আমাদের নিষ্ঠার সঙ্গে সহায়ক ও উৎসাহদায়ক থাকা উচিত। কিন্তু তা করার নানা রকম উপায় আছে। আমরা যেভাবে এটি করতে চাই না, তার একটি হলো বিষাক্ত ইতিবাচকতা দেখানো। যেমন, কেউ কিছু বুঝতে সমস্যায় পড়লে আমরা যদি উৎসাহ দিতে গিয়ে জোর দিয়ে বলি “আমি জানি আপনি এটা বুঝে ফেলবেন”, তা কম সহায়ক, বরং তাতে কারও নিজেকে “কম” মনে হতে পারে। শুধু এমন উৎসাহ দিয়ে ঠেলে দেওয়ার চেয়ে, যা তাদের কানে “আরেহ! এখনো বুঝলেন না?”-এর মতো শোনায়, বরং বারবার ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে অন্য উদাহরণ দেওয়া বেশি সহায়ক হতে পারে।

মেন্টরের সঙ্গে কয়েক দফা ইটারেশনের পরও মেন্টি যে সমাধানে পৌঁছান, সেটি সবচেয়ে পারফরম্যান্ট নাও হতে পারে, বা কোডিং স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে পুরোপুরি মিলতেও নাও পারে। মেন্টিকে নিখুঁত সমাধানের দিকে ঠেলে দেওয়া হলো সেই পরম তথ্যগত নির্ভুলতার উদাহরণ, যা Exercism-এর চেতনার মধ্যে পড়ে না। সমাধানটি হয়তো যথেষ্ট ভালো পর্যায়ে, আর তখন কৌশল আরও ঝালিয়ে নেওয়ার কাজটি পরের কোনো মেন্টরিং সেশনের জন্য রেখে দেওয়া যায়।

দায়বদ্ধতার চেতনা

একজন মেন্টর হয়তো নিজের দায়িত্বগুলো নিয়ে নিশ্চিত নন। দায়িত্বগুলো অল্প ও সহজ: সহায়ক ও উৎসাহদায়ক হওয়া। কোনো এক সময়ে মেন্টরের মনে হলে তিনি এর কোনোটিই হতে পারছেন না, তখন ভদ্রভাবে সেশন শেষ করার প্রস্তাব দেওয়াই ভালো, যাতে মেন্টি আবার আবেদন করে অন্য একজন মেন্টর পেতে পারেন। মেন্টরের জন্য সবচেয়ে ভালো হতে পারে মেন্টিকে আলোচনা শেষ করার আমন্ত্রণ জানানো, কিন্তু আলোচনা শেষ করার প্রয়োজন মনে হলে কারণ ব্যাখ্যা করে একটি শেষ মন্তব্য দিয়ে তা করা ভদ্রতার পরিচয় হবে। যে ত্রুটিগুলোর কারণে সেশনটি অসন্তোষজনক হলো, সেগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া লোভনীয় মনে হলেও Exercism-এর চেতনায় বেশি মানায় মেন্টর মেন্টির ওপর দোষ না চাপানো।

সহযোগিতার চেতনা

Exercism-এর সহযোগিতার চেতনা সবচেয়ে ভালোভাবে প্রকাশ পায় যখন কেবল অনুশীলনীর (ভালো) সমাধানটি বলে দেওয়া হয় না, বরং ব্যবহার করা যায় এমন অন্য পদ্ধতিগুলো বর্ণনা করা হয় এবং সেই পরামর্শগুলো কোডে রূপ দিতে মেন্টিকেই ছেড়ে দেওয়া হয়। মেন্টি আটকে গেলে সমাধানটি ইচ্ছা করলে দেখার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। সেটি হতে পারে ভাঁজ করে রাখা details সেকশনে একটি ছোট উদাহরণ, অথবা প্রকাশিত কোনো সমাধানের লিংক। সেকশনটি খুলবেন কি না বা লিংকটি অনুসরণ করবেন কি না, তা মেন্টির নিজের পছন্দ।

হতে পারে মেন্টি কোনো পরামর্শ পছন্দের কথা স্বীকার করলেন, কিন্তু বললেন ভবিষ্যতের জন্য তা মনে রাখবেন। মেন্টর হয়তো প্রস্তাব দিতে পারেন যে পরামর্শের ভিত্তিতে আরেকটি ইটারেশন জমা দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু মেন্টি হয়তো নিজের আসল সমাধান না বদলেই আলোচনা শেষ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আপনার মেন্টরিং করা বলে চিহ্নিত একটি প্রকাশিত সমাধান যে আরও ভালো হতে পারত বলে আপনি মনে করেন, তা নিয়ে একটু অস্বস্তি হতে পারে, তবু মেন্টির অনিচ্ছা মনে হলে পরামর্শটি বাস্তবায়নে তাকে চাপ না দেওয়াই সহযোগিতার চেতনা।

সহযোগিতার চেতনা আরেকভাবে কাজ করে মেন্টরের মেন্টির কাছ থেকে শেখার মধ্য দিয়ে। সেশন চলাকালীন মেন্টি এমন কিছু তুলতে পারেন যা মেন্টর জানেন না। মেন্টরের কাছ থেকে “সবজান্তা” ভাব দেখানোর প্রত্যাশা করা হয় না। মেন্টি যে বিষয়টি তুলেছেন তা নিজে জানতেন না বা ভাবেননি, মেন্টর তা স্বীকার করলে দোষের কিছু নেই। মেন্টিকে জানানো যে তিনি আপনাকে কিছু শেখালেন, তা আপনার দেওয়া সবচেয়ে বড় উৎসাহগুলোর একটি হতে পারে। এটি সহযোগিতামূলক শেখার প্রক্রিয়ারই অংশ।